October 25, 2026, 7:37 pm

অবশেষে চট্টগ্রামকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতল খুলনা

অবশেষে চট্টগ্রামকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতল খুলনা

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে চট্টগ্রামকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতল খুলনা। ফ্রাঞ্চাইজি এ টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ে ফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর বল হাতে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন শহিদুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।

খুলনার বিপক্ষে ১৫৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে তীরে গিয়ে তরী ডুবে চট্টগ্রামের। ৩.৩ ওভারে দলীয় ২৬ রানে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ ‍দিয়ে নতুন জীবন পেয়েও এক বলের ব্যবধানে শুভাগত হোমের বলে এলবিডব্লিউ হন চট্টগ্রামের এই তারকা ওপেনার।

ওয়ান ডাউনে খেলতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। আগের দুই ম্যাচে ৫৩ ও ৩৪ রান করা এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান এদিন ফেরেন মাত্র ৭ রানে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৩৯৩ রান করা ওপেনার লিটন এদিন ফেরেন ২৩ বলে ২৩ রান করে।

৫১ রানে সৌম্য, মিঠুন ও লিটনের উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যাওয়া দলকে খেলায় ফেরাতে চেষ্টা করেন সৈকত আলী ও শামসুর রহমান শুভ। এ জুটিতে ৪৫ রান করে আউট হন শামসুর রহমান। সাজঘরে ফেরার আগে ২১ বলে ২৩ রান করেন জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে যাওয়া এই তারকা ক্রিকেটার।

৯৬ রানে চার উইকেট পতনের পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান সৈকত আলী।

জয়ের জন্য শেষদিকে ৩০ বলে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ৫৭ রান। ১৬তম ওভারে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে এক ছক্কা হাঁকিয়ে ১০ রান আদায় করে নেন সৈকত। ১৭তম ওভারে আল আমিন খরচ করেন মাত্র ৭ রান।

১৮ বলে প্রয়োজন ছিল ৪০ রান। শহীদুলের করা ওভারে ১১ রান নেন সৈকত আলী। জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। ১৯তম ওভারের প্রথম পাঁচ বলে ৭ রান নেন মোসাদ্দেক-সৈকত আলী।

জয়ের জন্য ৭ বলে প্রয়োজন ছিল ২২ রান। ওই ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান কমান মোসাদ্দেক। জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। শহিদুলের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন সৈকত আলী। দ্বিতীয় বলে ডাবল রান নেন মোসাদ্দেক হোসেন। তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দেন মোসাদ্দেক হোসেন।

জয়ের জন্য শেষ তিন বলে প্রয়োজন ১৩ রান। চতুর্থ বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সৈকত আলী। অথচ তার ব্যাটে ভর করে জয় দেখেছিল চট্টগ্রাম। জয় থেকে মাত্র ১৩ রান দূরে থাকতে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে ৪৫ বলে ৫৩ রান করেন সৈকত আলী। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নেন নাদিফ। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পরাজয়ের ব্যবধান কমান নাহিদুল ইসলাম।

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার জহুরুল ইসলাম অমি। দলীয় ২১ রানে অফ স্পিনার সেই নাহিদুল ইসলাদের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ইমরুল কায়েস।

দলীয় ৪৩ রানে ২০ বলে ২৫ রানে ফেরেন অন্য ওপেনার জাকির হোসেন। চতৃর্থ উইকেটে আরিফুল হককে সঙ্গে নিয়ে ৪০ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২৩ বলে ২১ রানে ফেরেন আরিফুল। তার বিদায়ের পর আর কোনো ব্যাটসম্যান যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। তিনি একাই ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে যান। তার একার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান করে খুলনা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা: ২০ ওভারে ১৫৫/৭ (মাহমুদউল্লাহ ৭০*, জাকির হোসেন ২৫; নাহিদুল ২/১৯, শরিফুল ২/৩৩)।
চট্টগ্রাম:২০ ওভারে ১৫০/৬ (সৈকত আলী ৫৩, লিটন ২৩, শামসুর রহমান ২৩; শহিদুল ইসলাম ২/৩৩)।
ফল: খুলনা ৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (খুলনা)।

 

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com